চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেকেই বুঝতে পারেন না চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত কীভাবে লিখতে হয়। কাকে আবেদন করতে হবে, কী লিখতে হবে, চাকরি ছাড়ার কারণ উল্লেখ করা দরকার কি না, শেষ কর্মদিবস কীভাবে লিখবেন বা নোটিশ পিরিয়ড কীভাবে হিসাব হবে এসব বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন থাকে।
চাকরি ছাড়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে যে লিখিত আবেদন দেওয়া হয় তাকে সাধারণভাবে রিজাইন লেটার, পদত্যাগপত্র, চাকরি ছাড়ার আবেদন বা চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন পত্র বলা হয়।
একটি ভালো রিজাইন লেটার খুব বড় হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের সিদ্ধান্ত পরিষ্কারভাবে জানানো, প্রয়োজনীয় তারিখ উল্লেখ করা এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে আবেদন করাই মূল বিষয়।
এই লেখায় চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত লেখার নিয়ম, রিজাইন লেটারের বাংলা ও ইংরেজি নমুনা, বিভিন্ন ফরম্যাট, ব্যক্তিগত কারণে চাকরি ছাড়ার আবেদন, নোটিশ পিরিয়ড, ইমেইলে রিজাইন লেটার এবং প্রয়োজনীয় FAQ একসঙ্গে দেওয়া হলো।
গুরুত্বপূর্ণ: চাকরি ছাড়ার আগে আপনার নিয়োগপত্র, employment contract বা প্রতিষ্ঠানের HR policy দেখে নিন। সেখানে resignation এবং notice period সম্পর্কে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকতে পারে।
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত কী?
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত হলো কোনো কর্মীর পক্ষ থেকে তার বর্তমান চাকরি থেকে পদত্যাগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন।
এই আবেদনের মাধ্যমে কর্মী জানান যে তিনি আর ওই পদে কাজ চালিয়ে যেতে চান না এবং নির্দিষ্ট তারিখ থেকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেন।
সাধারণভাবে নিচের শব্দগুলো একই ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়:
- রিজাইন লেটার
- পদত্যাগপত্র
- চাকরি ছাড়ার আবেদন
- চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন
- চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত
- Resignation Letter
তবে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী কোন ধরনের আবেদন বা কোন ফরম্যাটে জমা দিতে হবে তা ভিন্ন হতে পারে।
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত লেখার নিয়ম
একটি চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত লেখার সময় অপ্রয়োজনীয় কথা না লিখে মূল বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা ভালো।
সাধারণত একটি রিজাইন লেটারে নিচের বিষয়গুলো থাকতে পারে:
- তারিখ
- প্রাপকের পদবি
- প্রতিষ্ঠানের নাম
- প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা
- আবেদনের বিষয়
- বর্তমান পদবি
- পদত্যাগের সিদ্ধান্ত
- প্রয়োজন হলে পদত্যাগের কারণ
- শেষ কর্মদিবস
- দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে সহযোগিতার কথা
- প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা
- আবেদনকারীর নাম
- কর্মী আইডি
- মোবাইল নম্বর
- স্বাক্ষর
সব তথ্য প্রতিটি রিজাইন লেটারে দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম এবং আবেদনের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে।
রিজাইন লেটারের সাধারণ ফরম্যাট
একটি সাধারণ রিজাইন লেটার ফরম্যাট নিচের মতো হতে পারে:
তারিখ: [দিন-মাস-বছর]
বরাবর
[কর্তৃপক্ষের পদবি]
[প্রতিষ্ঠানের নাম]
[ঠিকানা]
বিষয়: চাকরি থেকে পদত্যাগের আবেদন।
জনাব/জনাবা,
আমি [পদবি] হিসেবে [প্রতিষ্ঠানের নাম]-এ কর্মরত আছি। [ব্যক্তিগত কারণ/প্রাসঙ্গিক কারণ]-এর কারণে আমি আমার বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই [শেষ কর্মদিবসের তারিখ] থেকে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় পাওয়া সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতার জন্য আমি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রয়োজনীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি।
বিনীত
[আপনার নাম]
[পদবি]
[কর্মী আইডি]
[মোবাইল নম্বর]
[স্বাক্ষর]
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্তের বাংলা নমুনা
নিচে একটি সাধারণ চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত বাংলা নমুনা দেওয়া হলো। নিজের নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান ও তারিখ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অংশ পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন।
তারিখ: ২১ আগস্ট ২০২৬
বরাবর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
এবিসি লিমিটেড
ঢাকা।
বিষয়: চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী পদে কর্মরত আছি। কিছু ব্যক্তিগত কারণে আমি আমার বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই [শেষ কর্মদিবসের তারিখ] থেকে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় আমি অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি। এ সময়ে কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছি তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আমি সহযোগিতা করব।
অতএব, আমার আবেদনটি সদয় বিবেচনা করে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বিনীত
নাম: [আপনার নাম]
পদবি: অফিস সহকারী
কর্মী আইডি: [আইডি নম্বর]
মোবাইল: [মোবাইল নম্বর]
স্বাক্ষর: __________
ব্যক্তিগত কারণে চাকরি ছাড়ার আবেদন
ব্যক্তিগত কারণে চাকরি ছাড়তে হলে রিজাইন লেটারে ব্যক্তিগত বিষয় বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন নেই। সংক্ষেপে কারণ উল্লেখ করলেই যথেষ্ট।
নমুনা
বিষয়: ব্যক্তিগত কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন।
জনাব,
আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে [পদবি] হিসেবে কর্মরত আছি। কিছু ব্যক্তিগত কারণে আমি আমার বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী [তারিখ] থেকে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এবং এ সময়ে পাওয়া সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রয়োজনীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজে আমি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতা করব।
অতএব, আমার আবেদনটি সদয় বিবেচনা করে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বিনীত
[আপনার নাম]
[পদবি]
[কর্মী আইডি]
[মোবাইল নম্বর]
রিজাইন লেটারে চাকরি ছাড়ার কারণ লিখতে হয় কি?
সব ক্ষেত্রে বিস্তারিত কারণ লেখা প্রয়োজন হয় না। আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়মে কারণ উল্লেখ করতে বলা হলে সেটি দিতে হবে।
কারণ উল্লেখ করতে চাইলে সংক্ষেপে লিখতে পারেন:
- ব্যক্তিগত কারণে
- পারিবারিক কারণে
- উচ্চশিক্ষার জন্য
- ক্যারিয়ার পরিবর্তনের কারণে
- অন্য প্রতিষ্ঠানে নতুন সুযোগ পাওয়ায়
- ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার পরিকল্পনার কারণে
ব্যক্তিগত বিষয় বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন না থাকলে শুধু সংক্ষিপ্ত কারণ উল্লেখ করাই ভালো।
নোটিশ পিরিয়ড কী?
চাকরি ছাড়ার আগে প্রতিষ্ঠানকে যে নির্দিষ্ট সময় আগে পদত্যাগের বিষয় জানাতে হয় তাকে সাধারণভাবে নোটিশ পিরিয়ড বলা হয়।
উদাহরণ হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়মে যদি ৩০ দিনের notice period থাকে তাহলে সাধারণত চাকরি ছাড়ার আগে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পদত্যাগের বিষয় জানাতে হবে।
তবে সব প্রতিষ্ঠানের notice period এক নয়। এটি আপনার নিয়োগপত্র, employment contract, প্রতিষ্ঠানের policy এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
তাই রিজাইন লেটার দেওয়ার আগে নিজের appointment letter বা contract দেখে নেওয়া ভালো।
নোটিশ পিরিয়ড উল্লেখ করে রিজাইন লেটার
বিষয়: চাকরি থেকে পদত্যাগের আবেদন।
জনাব,
আমি [প্রতিষ্ঠানের নাম]-এ [পদবি] হিসেবে কর্মরত আছি। ব্যক্তিগত কারণে আমি আমার বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নোটিশ পিরিয়ড সম্পন্ন করে [শেষ কর্মদিবসের তারিখ] আমার শেষ কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় পাওয়া সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতার জন্য আমি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ। দায়িত্ব হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে আমি সহযোগিতা করব।
বিনীত
[আপনার নাম]
[পদবি]
[কর্মী আইডি]
নোটিশ পিরিয়ড ছাড়া চাকরি ছাড়ার আবেদন
বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো কর্মীর পক্ষে পুরো notice period পালন করা সম্ভব নাও হতে পারে। এমন হলে সরাসরি কাজে যাওয়া বন্ধ না করে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা ভালো।
আবেদনে এভাবে লিখতে পারেন:
“বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত নোটিশ পিরিয়ড সম্পন্ন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি সদয় বিবেচনা করে আমাকে দ্রুত চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।”
তবে প্রতিষ্ঠান এই অনুরোধ গ্রহণ করবে কি না তা তাদের নিজস্ব নিয়ম ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
অন্য চাকরি পাওয়ার কারণে রিজাইন লেটার
অন্য প্রতিষ্ঠানে নতুন চাকরির সুযোগ পাওয়ার কারণেও অনেকে পদত্যাগ করেন। এ ক্ষেত্রে নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম বা বেতনসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিষয়: চাকরি থেকে পদত্যাগের আবেদন।
জনাব,
আমি [পদবি] হিসেবে আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। আমার পেশাগত ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে আমি বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করতে চাই। তাই [তারিখ] থেকে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় পাওয়া সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। প্রয়োজনীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজে আমি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতা করব।
বিনীত
[আপনার নাম]
উচ্চশিক্ষার জন্য চাকরি ছাড়ার আবেদন
উচ্চশিক্ষার জন্য চাকরি ছাড়লে কারণটি সরাসরি ও সংক্ষেপে উল্লেখ করা যায়।
বিষয়: উচ্চশিক্ষার জন্য চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন।
জনাব,
আমি [পদবি] হিসেবে আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আমি আমার বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই [শেষ কর্মদিবসের তারিখ] থেকে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। এ সময়ে কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রয়োজনীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজে আমি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতা করব।
বিনীত
[আপনার নাম]
[পদবি]
রিজাইন লেটার বাংলা ও ইংরেজি
অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজিতে resignation letter জমা দিতে হয়। সেক্ষেত্রে নিচের নমুনাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
English Resignation Letter Sample
Date: 21 August 2026
To
The Managing Director
ABC Limited
Dhaka.
Subject: Resignation from the Position of Office Assistant
Dear Sir/Madam,
I am writing to formally resign from my position as an Office Assistant at ABC Limited due to personal reasons. I would like to request you to accept my resignation effective from [last working date].
I am grateful for the opportunity to work with the organization and for the support and experience I received during my employment.
I will cooperate with the necessary handover process and complete my responsibilities as required by the company.
Thank you for your support and understanding.
Sincerely,
[Your Name]
Office Assistant
Employee ID: [ID]
Contact: [Phone Number]
Signature
ইমেইলে রিজাইন লেটার কীভাবে পাঠাবেন?
বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানে ইমেইলের মাধ্যমে resignation letter পাঠানো হয়। তবে আপনার অফিসে ইমেইলের মাধ্যমে পদত্যাগ গ্রহণ করা হয় কি না তা আগে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
Email Subject
Resignation Letter – [Your Name]
Email Body
Dear Sir/Madam,
Please accept this email as my formal resignation from my position as [Job Title] at [Company Name] due to personal reasons.
My proposed last working day is [Date], subject to the company’s notice requirements.
I am grateful for the opportunities and support I received during my time with the organization. I will cooperate with the necessary handover process before my departure.
Thank you for your understanding.
Sincerely,
[Your Name]
[Job Title]
[Employee ID]
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত ও রিজাইন লেটারের বিভিন্ন ফরম্যাট
নিচে চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত ও রিজাইন লেটারের বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি ফরম্যাটের নমুনা ছবি দেওয়া হলো। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ছবিগুলো দেখে আবেদনপত্রের কাঠামো ও লেখার ধরন বুঝে নিতে পারেন। প্রয়োজন হলে নিজের নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠানের নাম, চাকরি ছাড়ার কারণ ও তারিখ পরিবর্তন করে ব্যবহার করুন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে রিজাইন লেটার জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও নোটিশ পিরিয়ড অবশ্যই দেখে নিন।






রিজাইন লেটার বাংলা ফরম্যাট PDF ও Word ডাউনলোড
নিচে রিজাইন লেটারের বাংলা ফরম্যাট DOCX ও PDF ফাইলে দেওয়া হলো। প্রয়োজন অনুযায়ী ফাইলটি ডাউনলোড করে নিজের নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠানের নাম, চাকরি ছাড়ার কারণ ও তারিখ পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফাইলটি ব্যবহার করার আগে আপনার প্রতিষ্ঠানের রিজাইন দেওয়ার নিয়ম ও নোটিশ পিরিয়ডের বিষয়টি অবশ্যই যাচাই করে নিন।
রিজাইন লেটার বাংলা ফরম্যাট:
📄 DOCX: [ডাউনলোড করুন]
📥 PDF: [ডাউনলোড করুন]
রিজাইন লেটারে কী কী তথ্য দিতে হয়?
একটি সাধারণ resignation letter-এ প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের তথ্যগুলো দেওয়া যায়:
- তারিখ
- প্রাপকের পদবি
- প্রতিষ্ঠানের নাম
- প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা
- বিষয়
- বর্তমান পদবি
- পদত্যাগের কারণ
- শেষ কর্মদিবস
- notice period-এর তথ্য
- দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা
- কৃতজ্ঞতা
- নাম
- কর্মী আইডি
- মোবাইল নম্বর
- স্বাক্ষর
তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সব তথ্য বাধ্যতামূলক নয়।
রিজাইন লেটারে কী লেখা উচিত নয়?
রিজাইন লেটার একটি অফিসিয়াল document। তাই এখানে ব্যক্তিগত রাগ, ক্ষোভ বা অপ্রয়োজনীয় অভিযোগ প্রকাশ না করাই ভালো।
রিজাইন লেটারে সাধারণত এড়িয়ে চলুন:
- সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
- কর্তৃপক্ষকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য
- রাগ বা ক্ষোভের ভাষা
- অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ঘটনা
- অন্য কর্মীর সঙ্গে তুলনা
- অসম্মানজনক ভাষা
- মিথ্যা তথ্য
কোনো অভিযোগ থাকলে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত HR process-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানানো ভালো।
রিজাইন লেটার লেখার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
পদের নাম ভুল লেখা
বর্তমান পদবি সঠিকভাবে লিখুন। পুরোনো কোনো আবেদনপত্র কপি করলে পদের নাম পরিবর্তন করতে ভুল হয়েছে কি না দেখে নিন।
প্রতিষ্ঠানের নাম ভুল লেখা
অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম রয়ে গেলে সেটি একটি গুরুতর ভুল হতে পারে। জমা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের নাম যাচাই করুন।
শেষ কর্মদিবস ভুল দেওয়া
শেষ কর্মদিবস লেখার আগে notice period এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম দেখে নিন।
অতিরিক্ত বড় করে লেখা
রিজাইন লেটারে অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন নেই। মূল বিষয়টি পরিষ্কারভাবে লিখুন।
আবেগপূর্ণ ভাষা ব্যবহার
চাকরি ছাড়ার সময় কোনো বিষয়ে অসন্তুষ্টি থাকলেও রিজাইন লেটারে ভদ্র ও পেশাদার ভাষা ব্যবহার করা ভালো।
মিথ্যা তথ্য দেওয়া
পদত্যাগের কারণ বা অন্য কোনো তথ্য উল্লেখ করলে সত্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।
চাকরি ছাড়ার আগে যেসব বিষয় মনে রাখবেন
রিজাইন লেটার দেওয়াই চাকরি ছাড়ার একমাত্র কাজ নয়। প্রতিষ্ঠানভেদে আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকতে পারে।
যেমন:
- দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া
- অফিসের সম্পদ ফেরত দেওয়া
- প্রয়োজনীয় document জমা দেওয়া
- clearance সম্পন্ন করা
- HR-এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় formalities শেষ করা
- final settlement সম্পর্কে জানা
- experience বা relieving letter প্রয়োজন হলে সেটির বিষয়ে HR-এর সঙ্গে কথা বলা
এসব বিষয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুসরণ করুন।
রিজাইন লেটার জমা দেওয়ার আগে চেকলিস্ট
রিজাইন লেটার জমা দেওয়ার আগে একবার মিলিয়ে নিন:
- তারিখ ঠিক আছে
- প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিক আছে
- প্রাপকের পদবি ঠিক আছে
- বিষয় পরিষ্কার
- নিজের পদবি ঠিক আছে
- শেষ কর্মদিবস ঠিক আছে
- notice period-এর নিয়ম যাচাই করা হয়েছে
- প্রয়োজন হলে কারণ সংক্ষেপে লেখা হয়েছে
- ভাষা ভদ্র ও পরিষ্কার
- নাম ও কর্মী আইডি ঠিক আছে
- স্বাক্ষর করা হয়েছে
- প্রয়োজনীয় document সংযুক্ত করা হয়েছে
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত ও রিজাইন লেটার কি একই?
সাধারণ ব্যবহারে চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত, পদত্যাগপত্র এবং রিজাইন লেটার প্রায় একই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
রিজাইন লেটার হলো কর্মীর পক্ষ থেকে চাকরি ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আর “চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন” কথাটিতে কর্তৃপক্ষের কাছে চাকরি থেকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধটি আরও স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়।
তবে কোন শব্দ ব্যবহার করবেন বা কোন format-এ আবেদন করবেন তা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করাই ভালো।
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত সম্পর্কে FAQ
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত কী?
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত হলো চাকরি থেকে পদত্যাগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন। এতে কর্মী তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে নির্দিষ্ট তারিখ থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেন।
রিজাইন লেটার কীভাবে লিখব?
প্রথমে তারিখ, প্রাপকের তথ্য ও বিষয় লিখতে হবে। এরপর নিজের পদবি, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, প্রয়োজন হলে কারণ এবং শেষ কর্মদিবস উল্লেখ করতে হবে। শেষে দায়িত্ব হস্তান্তরে সহযোগিতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাম ও স্বাক্ষর দিতে পারেন।
রিজাইন লেটারে কারণ লেখা কি বাধ্যতামূলক?
সব ক্ষেত্রে নয়। প্রতিষ্ঠানের নিয়মে কারণ চাওয়া হলে দিতে হবে। অন্যথায় ব্যক্তিগত কারণ বা পেশাগত কারণে পদত্যাগের মতো সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ব্যবহার করা যায়।
চাকরি ছাড়ার কতদিন আগে রিজাইন লেটার দিতে হয়?
এটি প্রতিষ্ঠানের notice period-এর ওপর নির্ভর করে। আপনার appointment letter বা employment contract-এ এ বিষয়ে তথ্য থাকতে পারে।
রিজাইন লেটার বাংলায় লেখা যায়?
হ্যাঁ। প্রতিষ্ঠান বাংলায় আবেদন গ্রহণ করলে বাংলায় রিজাইন লেটার দেওয়া যায়। তবে নির্দিষ্ট ভাষায় আবেদন করার নির্দেশনা থাকলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।
রিজাইন লেটার ইংরেজিতে কীভাবে লিখব?
ইংরেজি resignation letter-এ সাধারণত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, last working date, প্রয়োজনীয় notice period এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য থাকে।
রিজাইন লেটারে শেষ কর্মদিবস উল্লেখ করা উচিত?
হ্যাঁ, সম্ভব হলে proposed last working date উল্লেখ করা ভালো। তবে তারিখটি প্রতিষ্ঠানের notice period এবং অনুমোদনের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
ব্যক্তিগত কারণে রিজাইন লেটার কীভাবে লিখব?
ব্যক্তিগত বিষয় বিস্তারিত না লিখে “ব্যক্তিগত কারণে আমি আমার বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি” এভাবে সংক্ষেপে লেখা যায়।
নোটিশ পিরিয়ড ছাড়া চাকরি ছাড়তে পারব?
এটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও আপনার employment contract-এর ওপর নির্ভর করে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের কাছে notice period কমানো বা মওকুফ করার অনুরোধ করা যেতে পারে।
রিজাইন লেটার ইমেইলে পাঠানো যায়?
অনেক প্রতিষ্ঠানে ইমেইলের মাধ্যমে resignation গ্রহণ করা হয়। তবে আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়মে কী বলা আছে তা আগে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
রিজাইন লেটারের সঙ্গে CV দিতে হয়?
সাধারণত রিজাইন লেটারের সঙ্গে CV দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রতিষ্ঠান আলাদা কোনো document চাইলে সেটি দিতে হবে।
শেষ কথা
চাকরি ছাড়ার সময় একটি পরিষ্কার, সংক্ষিপ্ত ও ভদ্র রিজাইন লেটার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। খুব কঠিন ভাষায় বা অনেক বড় করে লেখার প্রয়োজন নেই। নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় তারিখ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য পরিষ্কারভাবে জানালেই একটি ভালো আবেদন তৈরি করা যায়।
চাকরি থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত লেখার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ম এবং notice period মেনে চলা। পাশাপাশি রিজাইন লেটারে অপ্রয়োজনীয় অভিযোগ বা ব্যক্তিগত বিষয় না লিখে পেশাদার ভাষা ব্যবহার করা ভালো।
বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো ভাষায় আবেদন লিখলেও মূল উদ্দেশ্য একই কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানো এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
উপরের নমুনাগুলো নিজের নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তারিখ অনুযায়ী পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোনো চাকরি ছাড়ার আগে নিজের appointment letter, employment contract ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম একবার দেখে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
আরও দেখুন
চাকরির আবেদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে নিচের লেখাগুলো দেখতে পারেন।
