চাকরির জন্য আবেদন করার সময় একটি বিষয় নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন চাকরির আবেদন পত্র কীভাবে লিখতে হবে? বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানে লিখিত আবেদন জমা দিতে হলে কোথা থেকে শুরু করবেন, কী লিখবেন, কতটুকু লিখবেন এবং কোন তথ্যগুলো দেওয়া প্রয়োজন তা জানা জরুরি।
অনেকেই আবার চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম খুঁজে থাকেন। চাকরির আবেদনপত্র এবং চাকরির দরখাস্ত সাধারণত একই ধরনের লিখিত আবেদনকে বোঝায়। নির্দিষ্ট কোনো পদে চাকরি করার আগ্রহ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয় সেটিই চাকরির আবেদনপত্র বা চাকরির দরখাস্ত।
এই গাইডে চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম, চাকরির আবেদন পত্র বাংলা নমুনা, সরকারি ও বেসরকারি চাকরির দরখাস্তের ফরম্যাট, আবেদনপত্রে কী তথ্য থাকবে, কী কী ভুল এড়াতে হবে এবং চাকরির আবেদন পত্র ডাউনলোড করার আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত সবকিছু সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ: কোনো চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অবশ্যই দেখে নিন। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা আবেদন পদ্ধতি দেওয়া থাকলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
চাকরির আবেদন পত্র কী?
চাকরির আবেদন পত্র হলো কোনো নির্দিষ্ট পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রার্থীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া একটি লিখিত আবেদন। এতে সাধারণত আবেদনকারীর নাম, যোগাযোগের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং যে পদের জন্য আবেদন করা হচ্ছে তার তথ্য থাকে।
তবে সব চাকরিতে লিখিত আবেদনপত্র প্রয়োজন হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবার কোনো কোনো নিয়োগে CV বা নির্ধারিত আবেদন ফরম জমা দিতে হয়।
তাই আবেদনপত্র লেখার আগে প্রথমেই জানতে হবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আসলে কী ধরনের আবেদন চেয়েছে।
চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম
একটি ভালো চাকরির আবেদনপত্র খুব বড় করার প্রয়োজন নেই। মূল লক্ষ্য হলো অল্প কথায় প্রয়োজনীয় তথ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা।
সাধারণভাবে আবেদনপত্রে নিচের বিষয়গুলো রাখা হয়:
- তারিখ
- বরাবর
- প্রাপকের পদবি
- প্রতিষ্ঠানের নাম
- প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা
- আবেদনের বিষয়
- সম্ভাষণ
- আবেদনের কারণ
- শিক্ষাগত যোগ্যতা
- প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা
- আবেদন বিবেচনার অনুরোধ
- আবেদনকারীর নাম
- ঠিকানা
- মোবাইল নম্বর
- ই-মেইল
- স্বাক্ষর
সব চাকরির আবেদনপত্রে সব তথ্য দিতে হবে এমন নয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে সেটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
১. তারিখ লিখুন
আবেদনপত্রের শুরুতে সাধারণত তারিখ লেখা হয়। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ব্যবহার করাই ভালো।
২. বরাবর অংশ লিখুন
এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদবি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ঠিকানা লিখতে হবে।
যেমন:
বরাবর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
এবিসি লিমিটেড
ঢাকা।
৩. বিষয় লিখুন
বিষয়টি ছোট ও পরিষ্কার হওয়া উচিত।
উদাহরণ:
বিষয়: অফিস সহকারী পদে চাকরির জন্য আবেদন।
৪. মূল বক্তব্য লিখুন
মূল অংশে কেন আবেদন করছেন এবং সংশ্লিষ্ট পদের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা কী তা সংক্ষেপে লিখুন।
নিজের এমন যোগ্যতাগুলো উল্লেখ করুন যেগুলো পদের সঙ্গে সম্পর্কিত। অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৫. শেষে আবেদন করার অনুরোধ করুন
শেষ অংশে কর্তৃপক্ষকে আবেদনটি বিবেচনা করার অনুরোধ জানাতে পারেন।
৬. যোগাযোগের তথ্য দিন
আবেদনপত্রের শেষে নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজন হলে ই-মেইল ঠিকানা দিতে পারেন।
চাকরির আবেদন পত্রের সঠিক ফরম্যাট
একটি সাধারণ চাকরির আবেদনপত্রের কাঠামো নিচের মতো:
তারিখ: [দিন-মাস-বছর]
বরাবর
[প্রাপকের পদবি]
[প্রতিষ্ঠানের নাম]
[ঠিকানা]
বিষয়: [পদের নাম] পদে চাকরির জন্য আবেদন।
জনাব/জনাবা,
বিজ্ঞপ্তির সূত্র উল্লেখ করে আবেদন করার কারণ লিখতে হবে। এরপর পদের সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে হবে।
সবশেষে আবেদনটি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানাতে হবে।
বিনীত নিবেদক
নাম: [আপনার নাম]
ঠিকানা: [আপনার ঠিকানা]
মোবাইল: [মোবাইল নম্বর]
ই-মেইল: [ই-মেইল]
স্বাক্ষর: __________
এই ফরম্যাটটি একটি সাধারণ উদাহরণ। বাস্তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা থাকলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
চাকরির আবেদন পত্র বাংলা নমুনা
নিচে একটি সাধারণ চাকরির আবেদন পত্র বাংলা নমুনা দেওয়া হলো। নিজের তথ্য, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং পদের নাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে।
তারিখ: ২১ আগস্ট ২০২৬
বরাবর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
এবিসি লিমিটেড
ঢাকা।
বিষয়: অফিস সহকারী পদে চাকরির জন্য আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আপনার প্রতিষ্ঠানে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, অফিস সহকারী পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আমি উক্ত পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করি এবং আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য আগ্রহী। তাই আমাকে উক্ত পদের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার জন্য আবেদন করছি।
আমি [শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম] থেকে [শিক্ষাগত যোগ্যতা] সম্পন্ন করেছি। এছাড়া কম্পিউটার পরিচালনা, বাংলা ও ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ এবং অফিসের সাধারণ কাজ সম্পর্কে আমার ধারণা রয়েছে। দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে আমি আন্তরিক।
সুযোগ পেলে আমি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
অতএব, আমার আবেদনটি সদয় বিবেচনা করে আমাকে সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বিনীত নিবেদক
নাম: [আপনার নাম]
ঠিকানা: [আপনার ঠিকানা]
মোবাইল: [মোবাইল নম্বর]
ই-মেইল: [ই-মেইল ঠিকানা]
স্বাক্ষর: __________
চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম
চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম এবং চাকরির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম প্রায় একই। সাধারণ ব্যবহারে চাকরির আবেদনপত্রকে চাকরির দরখাস্তও বলা হয়।
একটি চাকরির দরখাস্ত লেখার সময় প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিচয় দিতে হবে। এরপর বিষয় লিখে কোন পদের জন্য আবেদন করা হচ্ছে তা জানাতে হবে।
মূল বক্তব্যে নিজের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং পদের সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়। শেষে কর্তৃপক্ষকে আবেদনটি বিবেচনা করার অনুরোধ জানাতে হবে।
দরখাস্তে এমন কোনো তথ্য লেখা উচিত নয় যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
চাকরির দরখাস্তের নমুনা
বরাবর
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
[প্রতিষ্ঠানের নাম]
[প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা]
বিষয়: [পদের নাম] পদে চাকরির জন্য আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, [পদের নাম] পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। উক্ত পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার রয়েছে। তাই আমি উক্ত পদে চাকরির জন্য আবেদন করছি।
আমি [শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম] থেকে [শিক্ষাগত যোগ্যতা] সম্পন্ন করেছি। পদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার বিষয়ে আমি আগ্রহী। সুযোগ পেলে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করব।
অতএব, আমার আবেদনটি সদয় বিবেচনা করে আমাকে সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বিনীত
নাম: [আপনার নাম]
ঠিকানা: [আপনার ঠিকানা]
মোবাইল: [মোবাইল নম্বর]
ই-মেইল: [ই-মেইল]
স্বাক্ষর: __________
চাকরির আবেদনপত্র ও দরখাস্তের বিভিন্ন ফরম্যাট ও নমুনা
নিচে চাকরির আবেদনপত্র ও দরখাস্তের বিভিন্ন ফরম্যাট এবং নমুনা দেওয়া হলো। প্রয়োজন অনুযায়ী ছবিগুলো দেখে আবেদনপত্রের কাঠামো সহজেই বুঝে নিতে পারেন। তবে কোনো চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করুন।


সরকারি চাকরির আবেদন পত্র কীভাবে লিখবেন?
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুসরণ করা।
বর্তমানে অনেক সরকারি চাকরিতে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবার নির্দিষ্ট কিছু নিয়োগে লিখিত আবেদন বা অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম থাকতে পারে।
যদি লিখিত আবেদনপত্র চাওয়া হয় তাহলে সাধারণত এতে থাকতে পারে:
- আবেদন করা পদের নাম
- প্রার্থীর নাম
- পিতা ও মাতার নাম
- শিক্ষাগত যোগ্যতা
- বর্তমান ঠিকানা
- স্থায়ী ঠিকানা
- মোবাইল নম্বর
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মতারিখের তথ্য যদি চাওয়া হয়
- প্রয়োজনীয় সংযুক্তি
- স্বাক্ষর
তবে এগুলো সব চাকরির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। বিজ্ঞপ্তিতে যা চাওয়া হয়েছে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
বিশেষ করে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোনো পুরোনো আবেদনপত্র দেখে একই ফরম্যাট হুবহু ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যাচাই করুন।
বেসরকারি চাকরির আবেদন পত্র
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার সময় পদের সঙ্গে সম্পর্কিত যোগ্যতা এবং দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো।
ধরুন আপনি হিসাবরক্ষক পদে আবেদন করছেন। তাহলে হিসাবরক্ষণ, Excel, accounting software বা সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে পারেন।
আবার মার্কেটিং পদে আবেদন করলে যোগাযোগ দক্ষতা, বিক্রয় অভিজ্ঞতা, customer handling বা সংশ্লিষ্ট দক্ষতার কথা বলা যেতে পারে।
অর্থাৎ একই আবেদনপত্র সব পদের জন্য ব্যবহার না করে যে পদের জন্য আবেদন করছেন তার প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদনপত্রের কিছু অংশ পরিবর্তন করা ভালো।
অভিজ্ঞতা না থাকলে চাকরির আবেদন কীভাবে লিখবেন?
নতুন চাকরিপ্রার্থীদের অনেকের কাজের অভিজ্ঞতা থাকে না। যদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না থাকে তাহলে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদের সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা তুলে ধরতে পারেন।
যেমন:
- কম্পিউটার পরিচালনার দক্ষতা
- Microsoft Office-এর কাজ
- যোগাযোগ দক্ষতা
- প্রশিক্ষণ
- শিক্ষাগত প্রকল্প
- স্বেচ্ছাসেবী কাজ
- পদের সঙ্গে সম্পর্কিত বাস্তব দক্ষতা
তবে অভিজ্ঞতা না থাকলে অভিজ্ঞতার ঘরে মিথ্যা তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
হাতে লেখা নাকি কম্পিউটারে চাকরির আবেদনপত্র লিখবেন?
এর নির্দিষ্ট একটি নিয়ম নেই। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
যদি বিজ্ঞপ্তিতে হাতে লেখা আবেদনপত্র চাওয়া হয় তাহলে হাতে লিখতে হবে। টাইপ করা আবেদনপত্র গ্রহণ করা হলে কম্পিউটারে তৈরি করে প্রিন্ট করা যেতে পারে।
নির্দেশনা পরিষ্কার না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা সবচেয়ে ভালো।
চাকরির আবেদনপত্রে কী কী কাগজপত্র দিতে হয়?
এটি চাকরি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
কোনো নিয়োগে শুধু আবেদনপত্র প্রয়োজন হতে পারে। আবার কোথাও CV, ছবি, শিক্ষাগত সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ বা অন্যান্য কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে।
তাই নিজের ইচ্ছামতো কাগজপত্র সংযুক্ত না করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা তালিকা অনুসরণ করুন।
চাকরির আবেদন পত্র ডাউনলোড করার আগে যা দেখবেন
অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের চাকরির আবেদন পত্র ডাউনলোড করার নমুনা পাওয়া যায়। এসব নমুনা দেখে ফরম্যাট সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়। কিন্তু কোনো পুরোনো নমুনা সরাসরি ব্যবহার করা ঠিক নয়।
ডাউনলোড করা আবেদনপত্র ব্যবহার করার আগে অন্তত নিচের বিষয়গুলো যাচাই করুন:
- পদের নাম সঠিক কি না
- প্রতিষ্ঠানের নাম সঠিক কি না
- প্রাপকের পদবি সঠিক কি না
- আবেদনের শেষ তারিখ ঠিক আছে কি না
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
- আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি
- হাতে লেখা নাকি টাইপ করা প্রয়োজন
- অন্য কোনো বিশেষ নির্দেশনা আছে কি না
কারণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে।
চাকরির আবেদনপত্র লেখার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
পদের নাম ভুল লেখা
একাধিক চাকরিতে আবেদন করলে একটি আবেদন থেকে অন্যটিতে পদের নাম ভুল থেকে যেতে পারে। জমা দেওয়ার আগে বিষয় এবং মূল বক্তব্যে পদের নাম মিলিয়ে দেখুন।
প্রতিষ্ঠানের নাম ভুল লেখা
অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম কপি করে রেখে দেওয়া একটি গুরুতর ভুল। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের নাম যাচাই করুন।
অতিরিক্ত বড় আবেদনপত্র লেখা
চাকরির আবেদনপত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত গল্প লেখার প্রয়োজন নেই। পদের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করুন।
বানান ভুল রাখা
নাম, পদ, প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বানান ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
ভুল মোবাইল নম্বর দেওয়া
মোবাইল নম্বর ভুল হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করতে নাও পারে। তাই নম্বর দেওয়ার পর আবার মিলিয়ে দেখুন।
মিথ্যা তথ্য দেওয়া
শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নিয়ম না মানা
আবেদনপত্র ভালো হলেও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া বাধ্যতামূলক শর্ত না মানলে আবেদন গ্রহণ নাও হতে পারে।
একটি ভালো চাকরির আবেদনপত্রের বৈশিষ্ট্য
একটি ভালো আবেদনপত্র সাধারণত:
- পরিষ্কার ও সহজ ভাষায় লেখা হয়
- নির্দিষ্ট পদের জন্য তৈরি করা হয়
- অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দেয়
- প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তুলে ধরে
- বানান ও তথ্যের দিক থেকে নির্ভুল থাকে
- ভদ্র ও পেশাদার ভাষা ব্যবহার করে
- নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুসরণ করে
শুধু সুন্দর ভাষায় লিখলেই আবেদনপত্র ভালো হয় না। সঠিক তথ্য এবং সঠিক নিয়ম মেনে লেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চাকরির আবেদনপত্রের একটি সহজ ফরম্যাট
যারা প্রথমবার চাকরির আবেদনপত্র লিখছেন তারা নিচের কাঠামোটি মনে রাখতে পারেন:
তারিখ
↓
বরাবর
প্রাপকের পদবি
প্রতিষ্ঠানের নাম
ঠিকানা
↓
বিষয়: [পদের নাম] পদে চাকরির জন্য আবেদন।
↓
জনাব/জনাবা,
আবেদনের কারণ।
নিজের যোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
আবেদন বিবেচনার অনুরোধ।
↓
বিনীত নিবেদক
নাম
ঠিকানা
মোবাইল
ই-মেইল
স্বাক্ষর
এটি একটি সাধারণ কাঠামো। নির্দিষ্ট নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে।
চাকরির আবেদনপত্র লেখার আগে একটি চেকলিস্ট
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো একবার মিলিয়ে নিন:
- পদের নাম ঠিক আছে
- প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিক আছে
- প্রাপকের পদবি ঠিক আছে
- আবেদনের বিষয় সঠিক
- শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ঠিক আছে
- মোবাইল নম্বর ঠিক আছে
- ই-মেইল ঠিক আছে
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত আছে
- বানান যাচাই করা হয়েছে
- নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে
- আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ যাচাই করা হয়েছে
চাকরির আবেদনপত্র সম্পর্কে FAQ
চাকরির আবেদনপত্র লেখার সঠিক নিয়ম কী?
চাকরির আবেদনপত্রের শুরুতে তারিখ ও প্রাপকের তথ্য দিতে হয়। এরপর আবেদনের বিষয় লিখে কোন পদের জন্য আবেদন করছেন তা জানাতে হয়। মূল অংশে নিজের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা সংশ্লিষ্ট দক্ষতা সংক্ষেপে তুলে ধরে শেষে আবেদন বিবেচনার অনুরোধ এবং যোগাযোগের তথ্য দিতে হয়। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা নির্দেশনা থাকলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
চাকরির আবেদনপত্র আর চাকরির দরখাস্ত কি একই?
সাধারণ ব্যবহারে চাকরির আবেদনপত্র এবং চাকরির দরখাস্ত বলতে একই ধরনের লিখিত আবেদনকে বোঝানো হয়। দুটির উদ্দেশ্য হলো কোনো নির্দিষ্ট পদে চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা।
চাকরির আবেদনপত্র কত পৃষ্ঠার হওয়া উচিত?
সাধারণ চাকরির আবেদনপত্র সংক্ষিপ্ত রাখা ভালো। প্রয়োজনীয় তথ্য এক পৃষ্ঠার মধ্যে দেওয়া সম্ভব হলে সেটিই যথেষ্ট। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।
চাকরির আবেদনপত্রে CV দেওয়া কি জরুরি?
সব সময় নয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে CV বা জীবনবৃত্তান্ত চাওয়া হলে অবশ্যই দিতে হবে। শুধু আবেদনপত্র চাওয়া হলে অতিরিক্ত কাগজপত্র দেওয়ার আগে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।
চাকরির আবেদনপত্র বাংলায় লেখা যায়?
যদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলায় আবেদন করার সুযোগ থাকে তাহলে বাংলায় লেখা যায়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজিতে আবেদন করতে বলা হলে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
চাকরির আবেদনপত্রে মোবাইল নম্বর দেওয়া উচিত?
হ্যাঁ। লিখিত আবেদনপত্রে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দেওয়া সাধারণভাবে উপকারী। তবে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট যোগাযোগের তথ্য চাওয়া হলে সেটিই দিতে হবে।
চাকরির দরখাস্ত কি হাতে লিখতে হয়?
শুধু বিজ্ঞপ্তিতে হাতে লেখা আবেদনপত্র চাওয়া হলে হাতে লিখতে হবে। অন্য ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা আবেদন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
চাকরির আবেদনপত্রে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত?
সহজ, পরিষ্কার, ভদ্র ও পেশাদার ভাষা ব্যবহার করা ভালো। অতিরিক্ত কঠিন শব্দ বা অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য না লিখে পদের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা উচিত।
চাকরির আবেদনপত্রে অভিজ্ঞতা না থাকলে কী লিখব?
অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না হলে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ এবং পদের সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা উল্লেখ করতে পারেন। তবে কোনো কাল্পনিক অভিজ্ঞতা লেখা উচিত নয়।
শেষ কথা
একটি ভালো চাকরির আবেদনপত্র তৈরির জন্য জটিল ভাষা বা বড় লেখা প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হলো সঠিক তথ্য, পরিষ্কার কাঠামো এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা মেনে চলা।
চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম জানা থাকলে সরকারি, বেসরকারি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লিখিত আবেদনের জন্য নিজের তথ্য সহজেই সাজানো যায়। একইভাবে চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম অনুসরণ করেও একটি সুন্দর ও গোছানো আবেদন তৈরি করা সম্ভব।
অনলাইন থেকে কোনো চাকরির আবেদন পত্র ডাউনলোড করলে সেটি সরাসরি ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে তথ্য ও নিয়ম মিলিয়ে নিন। বিশেষ করে পদের নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং শেষ তারিখ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে আবেদন জমা দেওয়ার আগে পুরো আবেদনপত্র একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন। একটি ছোট বানান বা তথ্যের ভুলও যেন আপনার আবেদনকে সমস্যায় না ফেলে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুন
চাকরি সংক্রান্ত আরও দরকারি তথ্য জানতে নিচের লেখাগুলো পড়তে পারেন।
